ডিজিটাল আইন বাতিল ও দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল

আজ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ইং শুক্রবার সকাল ১১.০০টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)- সিপিবি (এম) এর উদ্যোগে সরকারের জুলুম-দুঃশাসন, লুটপাট বন্ধ, ডিজিটাল আইন বাতিল ও দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. এম.এ সামাদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক কম. ডা. শামসুল আলম, জাতীয় বিপ্লবী পার্টির আহ্বায়ক কম. আবুল কালাম আজাদ, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মোস্তফা আল খালিদ বিন মাহমুদ, কমরেড আব্দুল্লাহ আল মামুন, কমরেড মাসুদুল আলম, কমরেড রফিকুল ইসলাম, মার্কসবাদী ছাত্র মঞ্চের সভাপতি মামুন খান, মার্কসবাদী যুব মঞ্চের সভাপতি সোহেল সামাদ, মার্কসবাদী শ্রমিক মঞ্চের সভাপতি কমরেড সুমন, মার্কসবাদী নারী মঞ্চের সভাপতি কমরেড জিন্নাত আরা, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড সোয়াইবুর রহমান, কমরেড রফিকুল ইসলাম, কমরেড শামসুল হক সরকার, রিয়াজ উদ্দিন খোকন, ওসমান গনি, মাসুদ আলম জয়, কমরেড বাবু প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করে দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড ডা. এম.এ সামাদ বলেন, মহাজোট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ রুদ্ধ করে দমন-পীড়নের পথে স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শাসন অব্যাহত রেখেছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট, দুর্নীতি আর দুঃশাসনে দেশের মানুষ দিশেহারা। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ চুড়ান্ত দলীয়করণের শিকার। শোষণ বৈষম্য, রুটি-রুজির সংকট, বেকারত্ব, গুম-খুন, সন্ত্রাস, জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। এর বিরুদ্ধে জনগণের বাঁচার দাবিতে গণসংগ্রাম জোরদার করা আজ আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা। অথচ দেশে এখন পর্যন্ত অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি একতরফা পাতানো নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে নির্বাচনে সরকারি দলকে ডিজিটাল কারচুপির সুযোগ করে দিতে নির্বাচন কমিশন আরপিও-তে বিতর্কিত ইভিএম ব্যবস্থা সংযুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিগত ৪৭ বছরের অভিজ্ঞতা হলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।
জনগণের সমর্থনহীন বর্তমান জাতীয় সংসদ বহাল রেখে সকল দল ও জনগণের জন্য নির্বাচনের সমান সুযোগ তৈরী হবে না। তাই আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি- তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে সবদলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠন করতে হবে।
