নাজিরপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষি উদ্যোক্তার স্ত্রী-কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন, স্বর্ণালংকার লুট

0
Untitled-21

পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে এক কৃষি উদ্যোক্তার কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেলে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট কৃষি উদ্যোক্তা হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মৎস্য ঘের ও কৃষি খামার পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত মামুন ডাকুয়া এবং তাঁর সহযোগীরা বেশ কিছুদিন ধরে ওই ঘের ও খামার নির্বিঘ্নে চালাতে হলে অলিউল্লাহর কাছে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মামুন ডাকুয়া তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
গত ১২ জানুয়ারি অলিউল্লাহ ডাকুয়া তাঁর লিজ নেওয়া ঘেরের নারিকেল ও ডাব ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেন। ডাবগুলো দেখানোর জন্য তাঁর কন্যা তানজিলা খাতুন ব্যাপারীদের নিয়ে ঘেরের কাছে যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ডাকুয়ার নেতৃত্বে মন্টু ডাকুয়া, নজরুল ইসলাম ডাকুয়া, হেলাল ডাকুয়াসহ ৮-৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ডাব পাড়তে বাধা দেয়।
এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তানজিলা খাতুনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাঁর পরনে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
কন্যার চিৎকার শুনে মা তাসলিমা বেগম তাঁকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপরও হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠির আঘাতে তাসলিমা বেগমকে গুরুতর জখম করা হয়। সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে মা ও মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে কালশিটে দাগ ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজিরপুর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে গরিমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *