বিজিবি সদস্য সুমনের লাশ উদ্ধার: হবিগঞ্জে শোকের মাতম

লালমনিরহাটের দহগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় গরু পাচার প্রতিরোধ করতে গিয়ে তিস্তা নদীতে নিখোঁজ বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক সুমন হাওলাদারের লাশ উদ্ধার করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।
বুধবার সকাল ১০টায় তিস্তা নদীর ভারতীয় অংশ থেকে বিএসএফ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে।
বিজিবি’র ১৩ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে সুমন মিয়ার লাশ বিএসএফের তিস্তা সংলঘ্ন অরুণ ক্যাম্পে রয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজিবি।
ঈদের দিন রাতে সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে গিয়ে সুমন হাওলাদার নিখোঁজ হয়। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার সন্ধানে অভিযান অব্যহত রাখে উদ্ধারে বিজিবি ও বিএসএফয়ের সদস্যরা। রংপুর ও লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের আট সদস্যের ডুবুরী দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে নিখোঁজ বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে এসে জড়ো হন স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশীসহ অসংখ্য মানুষ। সবার মাঝেই উৎকন্ঠা।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদে ছুটি মিলবে না, তাই রমজানেই বাড়িতে এসেছিলেন সুমন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান ২৬ রমজান। ঈদের দিন রাত ১০টায় সর্বশেষ স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। জানতে চান স্ত্রী খাওয়া দাওয়া করেছেন কিনা।
মঙ্গলবার সকালে খবর আসে তার নিখোঁজের। এরপর থেকেই বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন জেসমিন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। ১০ ভাই ৪ বোনের মধ্যে নিখোঁজ সুমন ১২তম।
