ভাস্কর্য নিয়ে হেফাজতের চক্রান্ত প্রতিহত করুণ: তথ্যমন্ত্রী

0
204140inu_kalerkantho_pic

204140inu_kalerkantho_pic

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যেকোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ‘আত্মঘাতী’ হবে বলে সরকারকে সতর্ক করেছেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সরকারকে উদ্দেশ্য করে এই শরিক নেতা বলেছেন, “সকল ভাস্কর্য রক্ষা করুন। ভাস্কর্যকে উপলক্ষ করে হেফাজতি তেঁতুল হুজুর চক্রের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জিকির তোলার চক্রান্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করুণ। ”

আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাসদ ঢাকা মহানগরী কমিটি আয়োজিত এক সমাবেশে তথ্যমন্ত্রীর এই আহ্বান আসে।

তিনি বলেন, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রদত্ত অধিকার রক্ষায় সকল ভাস্কর্য, ইতিহাস, ঐহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা, শিল্প-সাহিত্যের চর্চা রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসন ও সরকারের ওপর বর্তায়। আমরা আশা করব, প্রশাসন এবং সরকার তার উপরে ন্যস্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের সকল ভাস্কর্য রক্ষা করবে। শিল্প সাহিত্যের চর্চা নির্বিঘ্ন করার জন্য সকল পদক্ষেপ নেবে।

হেফাজতে ইসলামসহ ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারী সকল ‘ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অপচেষ্টা’ কঠোরভাবে দমন করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী

ইনু বলেন, “হেফাজতি সাম্প্রদায়িক তেঁতুল হুজুর চক্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা, রাজনৈতিক লেনদেন করবেন না। হেফাজতে ইসলাম তেঁতুল হুজুর চক্র, রাজাকার গোষ্ঠী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে যে কোনো লেনদেন বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ক্ষতি করে। ”

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে রোমান যুগের ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’ এর আদলে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন এর বিরোধিতায় নামে। ওই ভাস্কর্য অপসারণ করা না হলে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের ঘটনার মত আবারও ঢাকা অচল করে দেওয়ার হুমকি দেয় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজত।

এরপর গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন এক দল ওলামার সঙ্গে গণভবনে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি সরাতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ভাস্কর্যটি সরানোর পক্ষে এর নান্দনিক ‘ত্রুটির’ পাশাপাশি জাতীয় ঈদগাহের কাছে অবস্থানের কথা বলেন তিনি।

এ ছাড়াও ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় বিভিন্ন বাম সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এর মধ্যে দিয়ে সরকার মৌলবাদীদের সঙ্গে আপস করছে এবং তাতে ধর্মীয় মৌলবাদ আরও উৎসাহিত হবে।

এই সমালোচনার মধ্যেই গত শুক্রবার মধ্যরাতে ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে পরদিন মধ্যরাতে এনেক্স ভবনের সামনে পুনঃস্থাপন করা হয়।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *