শেষ বিকেলে রীতিমত ভেলকি দেখালেন নাঈম-তাইজুল

স্কোর বোর্ডের দিকে তাকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। দলটির ব্যাটসম্যানরা মনে মনে প্রস্তুতিও নিতে শুরু করে দিয়েছিল হয়তো বা। কারণ, দিনের শেষভাগেই হয়তো বা তাদের মাঠে নামতে হতে পারে। বাংলাদেশের বোলাররাও কি তেমনটা ভেবেছিল? শেষ দিকে বেশ কয়েক ওভার বোলিং করতে হতে পারে?
দিনের খেলার ৭৩তম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসান মিরাজ যখন জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হয়ে গেলেন, তখন বাংলাদেশের রান ২৫৯। পরবর্তী কয়েক ওভারে মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইনিংস। এ অবস্থায় এমন চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক। ক্যারিবীয়রা দিনের শেষ আলোয় ১০ থেকে ১২ ওভার ব্যাটিং করার মানসিক প্রস্তুতি তখন নিয়ে নিতেই পারে।
কিন্তু টেস্টে যে কোনো সময় যে কোনো জুটি দাঁড়িয়ে যেতে পারে- খেলাটির প্রায় দেড়শ’ বছরের ইতিহাসে এমন নজির আছে বহু। বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব বিরল ঘটনা হলেও যে একেবারে নেই তা নয়। কিন্তু শেষ দুটি উইকেটে ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম, অভিষিক্ত নাঈম হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান। যাদের ব্যাট বানের সয়লাব খুব বেশিক্ষণ বাধ দিয়ে রাখতে সক্ষম হওয়ার কথা নয়, তাদের কাছে খুব বেশি আশাও ছিল না অনেকের।
কিন্তু সেই অবিশ্বাস্য কাজটা করে দিলেন তাইজুল ইসলাম আর অভিষিক্ত নাঈম হাসান। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বিকেলে রীতিমত ভেলকি দেখালেন তারা দু’জন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে তাদের দু’জনের ব্যাট থেকে বেরিয়ে এলো অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটি। দু’জন ব্যাট করেছেন ১৫.৫ ওভার। ২ ওভার বাকি থাকতেই ব্যাড লাইটের কারণে দিনের খেলা শেষ করে দেন আম্পায়াররা।
৮ উইকেটে ২৫৯ থেকে দিন শেষে স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান জ্বলজ্বল করছে সেই ৮ উইকেটে ৩১৫ রান! সত্যিই অবিশ্বাস্য। ক্যারিবীয় বোলারদের তোপ এবং ঘূর্ণি ফাঁদ সামলে প্রায় ১৬ ওভার ব্যাট করা টেল এন্ডারদের পক্ষে চাট্টিখানি কথা নয়। সেই কাজটিই করে দেখালেন নাঈম হাসান এবং তাইজুল ইসলাম। দিন শেষে ৩২ রান নিয়ে তাইজুল এবং ২৪ রান নিয়ে উইকেটে রয়েছেন নাঈম হাসান।
