কুষ্টিয়ায় একজনের মৃত্যু, ১০ টি বাড়ি লকডাউনে

শাহেদ আল মাসুদ, কুষ্টিয়াঃ
এ ঘটনায় ২ চিকিৎসকসহ ৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন
কুষ্টিয়া শহরতলীর চৌড়হাস এলাকায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে পরিবারের লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের দুইজন চিকিৎসকসহ ৭ জন স্টাফকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে মৃত ব্যাক্তির বাড়িসহ আশেপাশের ৮-১০ টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে ওই এলাকায় চলাচল সীমিত ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম দিনবদলকে বলেন, “ওই ব্যক্তি তিন দিন ধরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি করানোভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এ জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়ম মেনে লাশ দাফন করা হবে।”
মৃতের স্বজনরা জানান, শহরের চৌড়হাস এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন ওই ব্যক্তি। গত শুক্রবার থেকে তার সর্দি দেখা দেয়। এক পর্যায়ে প্রচণ্ড কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার। সোমবার সকালে শ্বাসকষ্টের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, “আজ (সোমবার) সকাল সাতটার দিকে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।”
আরএমও তাপস কুমার সরকার আরও বলেন, “ওই ব্যক্তির পরিবারের কেউ প্রবাসী নন। কিন্তু তিনি জীবিকার জন্য ইজিবাইক চালাতেন। সেখান থেকে কোনো বাহকের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন তিনি।”
এদিকে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দুইজন চিকিৎসকসহ ৭ জন স্টাফ ৯ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর পরই কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোবায়ের হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহরতলীর চৌড়হাস এলাকার মৃত ব্যাক্তির বাড়িসহ আশে পাশের ৮-১০ টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন।