সিন্ডিকেটের কবলে কুয়েতের ভিসা

0
WhatsApp Image 2026-01-07 at 5.32.31 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেট মাষ্টার আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে প্রতিযোগীতা কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে কাজের ভিসা (শ্রমিক ভিসা) প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অন্তত ৭ গুন বেশি টাকা আদায় ও গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে তা বিক্রির অভিযোগে এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে সরকারি সংস্থাটি। ওই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে বক্তব্য দিতে আগামি বৃহস্পতিবার তাকে প্রতিযোগীতা কমিশনে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম আরেফ সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে কুয়েতে কাজের ভিসা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে ওই সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার উদ্যোগী হয়েছে সরকার। তথ্যানুসারে, কুয়েত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম গন্তব্য এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। তবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বলছে, মাত্র ১৪ থেকে ১৫ রিক্রুটিং এজেন্সি সিন্ডিকেট করে দেশটির ভিসা প্রসেসিং করে আসছে। যদিও দেশে প্রায় দুই হাজার ৯শ’ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং ফি মাত্র পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। তবে সিন্ডিকেট নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে। এভাবে গত ৮ বছরে তারা শত শত কোটি টাকা হাতিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছেন। সিন্ডিকেট নির্ধারিত ভিসা ফি’র বাইরে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে। আরেফ মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেড এয়ার স্পীড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন এসোসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) এর সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। সর্বশেষ সংগঠনটির সভাপতিও হন। যদিও অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে সরকার আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক বসিয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আটাবের শীর্ষ পদ ব্যবহার করে আরেফ সিন্ডিকেট কুয়েতের ভিসা প্রসেসিংয়ের নিয়ন্ত্রন নেন। এরপর ৫ হাজার ৩০০ টাকার ভিসা ফি আদায় করতে থাকেন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে।‘কুয়েত এম্বাসী সিন্ডিকেটের প্রধান মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আরেফের বাজার প্রতিযোগীতা পরিপন্থী কর্মকান্ডের বিষয়ে অভিযোগ’ শিরোনামে আরেফকে পাঠানো প্রতিযোগীতা কমিশনের নোটিশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগীতা আইন, ২০১২ এর বিধান লংঘনের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা ওই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং যেহেতু বিষয়টির উপর কমিশন প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু আপনাকে স্বয়ং বা মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয় অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করতে বক্তব্য দিতে ৮ জানুয়ারী প্রতিযোগীতা কমিশনের হাজির থাকার নোটিশ দেওয়া হল।’ গত ৪ জানুয়ারী পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়, ধার্য তারিখে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে। প্রতিযোগীতা কমিশন সূত্র জানায়, একজন রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের প্রধানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও আব্দুস সালাম আরেফের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রিরও একটি অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা তদন্তে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের আহবায়ক করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *