নাজিরপুরের কলারদোয়ানিয়ায় সন্ত্রাসী মামুন ডাকুয়ার নেতৃত্বে চাঁদাবাজদের তান্ডব, মামলা নিচ্ছে না ওসি হারুনুর রশিদ
পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে এক কৃষি উদ্যোক্তার কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে পাশবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ মামুন ডাকুয়া, মন্টু ডাকুয়া, নজরুল ইসলাম ডাকুয়া, হেলাল ডাকুয়াসহ ৮-৯জন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেলে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী কৃষি উদ্যোক্তা ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মৎস্য ঘের ও কৃষি খামার পরিচালনা এলাকায় এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়ে আসছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত মামুন ডাকুয়া এবং তাঁর সহযোগীরা গত কয়েক বছরে আওয়ামী যুবলীগের কর্মী পরিচয়ে এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি চালিয়েছে। ৫ আগস্টের পর পুরো সন্ত্রাসী গ্রুপ গা ঢাকা দিয়ে ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে সন্ত্রাসী মামুন ডাকুয়া গ্রুপ এলাকায় এসে ওই ঘের ও খামার নির্বিঘ্নে চালাতে হলে কৃষি উদ্যোক্তা হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার কাছে কাছে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সন্ত্রাসী মামুন ডাকুয়া তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
গত ১২ জানুয়ারি অলিউল্লাহ ডাকুয়া তাঁর ঘেরের নারিকেল ও ডাব ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেন। ডাবগুলো দেখানোর জন্য তাঁর কন্যা ব্যাপারীদের নিয়ে ঘেরের কাছে যান। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসী মামুন ডাকুয়ার নেতৃত্বে মন্টু ডাকুয়া, নজরুল ইসলাম ডাকুয়া, রুবেল, হেলাল ডাকুয়াসহ ৮-৯ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ডাব পাড়তে বাধা দেয়।
এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা হাফেজ অলিউল্লাহ ডাকুয়ার কন্যার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাঁর পরনে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
কন্যার চিৎকার শুনে তার মা তাঁকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপরও হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠির আঘাতে তাকেও গুরুতর জখম করা হয়। সন্ত্রাসীদের বর্বর নির্যাতনে মা ও মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে কালশিটে দাগ ও ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।
তাঁদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজিরপুর থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা না নিয়ে গরিমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওসি হারুনুর রশিদ প্রথমে বলেছিল নাজিরপুর হাসপাতালে আহতদের দেখে মামলা নিবেন। কিন্তু তাদের দেখে বলেছেন গুরুত্বর জখম হয়েছে এবং দ্রুত মামলা গ্রহণ করবেন। কিন্তু রহস্যময় কারণে তিনি মামলা গ্রহণ করছেন না। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে নাজিরপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ কতশত কোটি টাকার অবৈধ মালিক হয়েছেন তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
