মওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই গণভোটকে হ্যাঁ বলতে হবে। —-শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু

0
Untitled-2 copy

২২ জানুয়ারি ২০২৬ ভাসানী জনশক্তি পার্টির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৫৪ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় এবং চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর মাহবুব উল্লাহ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আজীবন সম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি রাজনীতির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখতেন, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি নেতাদের নেতা ছিলেন।নিজে কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেননি কিন্তু ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী জাফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া সহ যাদেরকে নেতা বানিয়েছিলেন তাদের অনেকই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেছেন। মওলানার মৃত্যুর ৪৯ বছরেও মওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। তিনি বলেন রাজনীতিবিদদের উচিত মওলানার জীবন এবং দর্শনকে ভালোভাবে স্টাডি করা,যুবসমাজের মাঝে মাওলানা ভাসানীর আদর্শ এবং চিন্তা চেতনাকে উপস্থাপন করা।মাওলানা ভাসানী যুদ্ধকালীন সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ৮সেপ্টেম্বর১৯৭১ সালে ভারতে উপদেষ্টা পরিষদের মিটিং হয়। সেই মিটিংএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মওলানা ভাসানী বিভিন্ন রাষ্ট প্রধানের কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি চেয়ে পত্র লেখেন।ভাসানীকে ইন্ডিয়া সরকার গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন। তিনি মুক্ত অবস্থায় থাকলে বাংলাদের রাজনীতির ইতিহাস অন্যরকম হোত। তিনি সবাইকে মাওলানা ভাসানীর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট এড. নজমুল হক নান্নু বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান, তার চিন্তা দর্শন কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র, তার সাথে অন্য কারো তুলনা চলে না। তিনি নিজেই নিজের তুলনা। মওলানা ভাসানী গ্রামের মানুষের বিশেষ করে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য জীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন বিলাসিতা কখনো তাকে স্পর্শ করেনি তিনি ছিলেন অত্যন্ত আতিথিয়পরায়ণ টাঙ্গাইলের সন্তোষে তার কুড়ে ঘরে দেশি এবং বিদেশি অতিথিরা হাজির হতো, সবাইকে তিনি স্বাভাবিক রান্নাবান্না করা খাবার দিয়েই আতিথিয়তা করতেন।স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের তিনি প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। সে সময় তিনিই একমাত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন যাকে সমগ্র বিশ্বের নেতৃবৃন্দ চিনতেন। মাওলানা ভাসানীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানদের কাছে পত্র পাঠাতে হয়েছে এবং সমর্থন চাইতে হয়েছে।ইন্ডিয়া সরকারের নিকট গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে ২২ শে জানুয়ারী দেশে ফিরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন মাওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন মাওলানা ভাসানী। মাওলানা ভাসানীর হাতেগড়া নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা ভাসানী যথাযোগ্য মর্যদা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন স্বাধীনতার ৫৪বছর পরেও আমরা মাওলানা ভাসানীর কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়তে পারিনি। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরী এবং স্বাক্ষর করেছি, আগামী নির্বাচনে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতেই হবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে মওলানা ভাসানীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে তার আদর্শ ধারন করতে হবে।
কারো বক্তব্য রাখেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ডক্টর আবু ইউসুফ সেলিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বাবুল বিশ্বাস, বিলকিস খন্দকার, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান তপন, রিকশা ভ্যান শ্রমিক পার্টির সভাপতি রতন দেওয়ান,ভাসানী নারী মুক্তি পার্টির সদস্য সচিব শাহানা বেগম, বংশাল থানা সভাপতি ইমরুল হাসান ওয়াসিম প্রমুখ ।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *