আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত

রাজধানীর সাভারের হেমায়েতপুরে আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মিলাদ, দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) বাদ আসর জয়নাবাড়ী মাদ্রাসা রোড, হেমায়েতপুর, ঢাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোছাঃ তাসকিয়া ইসলাম মুক্তা নেতৃত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদের মহাসচিব এম. এ. রশীদ, প্রাইম লাইফ ইনসুরেন্সের হেমায়েতপুর শাখার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম, কবি রাইছা আক্তার শিল্পীসহ আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের শিক্ষার্থী সোহাগী খাতুন, আখি আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য, প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মজীবনে সফলতা, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের সম্মানিত খতীব মাওলানা আব্দুল করিম।
দোয়া ও মুনাজাতের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বর্তমান সময়ে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারীদের দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টার স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, “আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারে মাত্র এক মাসের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে আবাসিক ও অনাবাসিক—দুই ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা অর্জনকারীদের দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ ও সুবিধার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান করলেই হবে না; প্রশিক্ষণার্থীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য, বৈধ প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশকে কর্মমুখী করে তোলা সম্ভব।
আল্লাহর দান গার্মেন্টস ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক মোছাঃ তাসকিয়া ইসলাম মুক্তা বলেন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নারী যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন এবং পরিবারে অর্থনৈতিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন—এটাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। তাই প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী ও নারীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পরিবার ও সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন আরও বাড়বে।
মিলাদ ও দোয়া শেষে দেশ, জাতি, প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মধ্যে দোয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।