পল্লবীতে যুবদলনেতাকে গুলি করে হত্যা ! রিকশাচালক গুলিবিগ্ধ ! গ্রেপ্তার ১
সোমবার,
২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ,
১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং,
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় গোলাম কিবরিয়া নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের নেতা।
১৭ নভেম্বর সোমবার, মিরপুর পুরোনো পল্লবী থানার পেছনে সি ব্লক এলাকায় এ গুলির ঘটনা ঘটে। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত এক অটোরিকশাচালককেও গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তার নাম আরিফ হোসেন (১৮)। বর্তমানে তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলযোগে তিনজন দুর্বৃত্ত দোকানের ভেতরে ঢুকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়ার মাথা, বুকে ও পিঠে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে আহত অটোরিকশাচালক আরিফকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মোহাম্মদ পিয়ারুল জানান, গোলাম কিবরিয়া নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা অটোরিকশার চালক আরিফকেও গুলি করে। সড়কে আহত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
ঘটনার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, দোকানে মাস্ক ও হেলমেট পরা তিন ব্যক্তি ঢুকে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে চলে যায়। এসময় তিনি দোকানে থাকা চেয়ার ধরে লুকানোর চেষ্টা করেন। পাশে অন্যরা থাকলেও অস্ত্রধারীদের কিছুই করতে পারেননি। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুবদল নেতা কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গেছে।’
তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত আনা হয়েছে বলে জানান।
পল্লবী থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম বলেন, পল্লবীর ব্লক সির ১৩ রোডে যুব দলের দুপক্ষের বিরোধের যেরেই ঘটনা ঘটেছে । আমরা তদন্ত শুরু করেছি। এ ঘটনা জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হত্যার ঘটনার জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাকছুদের রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা ২৪-২৫ বছর বয়সের জনি নামে এক যুবককে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছি।” ঘটনাস্থলের কাছাকাছি জায়গা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের কথা তুলে ধরে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, “হত্যাকাণ্ডের যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে, তার মধ্যে ওই যুবক আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।” পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার যুবকের কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহরাওয়াদী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পল্লবী এলাকা ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
