২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

0
WhatsApp Image 2026-08-23 at 6.41.23 PM
image_pdfimage_print

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণ করায় প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা।
এক অভিনন্দন বার্তায় মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে সমৃদ্ধ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের ঐক্য, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বিশেষ করে মানবাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মঞ্জুর হোসেন ঈসা আরও বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি বিশ্বাস করে—মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুসংহত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি কল্যাণমুখী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। নতুন রাষ্ট্রপতি তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল
২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট প্রদান করেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তাঁকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
পরদিন ২১ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ও অভিজ্ঞ নেতা। তিনি ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রত্যাশা
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে একজন অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করবেন। কোনো নাগরিক যেন রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ, ধর্ম, পেশা কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে অধিকারবঞ্চিত না হন—এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়াই হওয়া উচিত আমাদের সবার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, রাজনৈতিক হয়রানি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ করে একটি মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
মঞ্জুর হোসেন ঈসা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বকাল শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জাতীয় ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সবশেষে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও গণতান্ত্রিক, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

About Post Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed